1. m.a.roufekhc1@gmail.com : alokitokha :
দীঘিনালায় শিক্ষকের অবসর ও জন্মদিন উদযাপনের মাধ্যমে রাজকীয় বিদায় - আলোকিত খাগড়াছড়ি

দীঘিনালায় শিক্ষকের অবসর ও জন্মদিন উদযাপনের মাধ্যমে রাজকীয় বিদায়

  • প্রকাশিতঃ বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে
হাসান মোর্শেদ, দীঘিনালা:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবু সামাকে অবসর গ্রহণ ও জন্মদিন উপলক্ষে ব্যতিক্রমধর্মী সংবর্ধনা দিয়েছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। অনুষ্ঠানে কেক কাটা, সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান এবং বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয় প্রিয় এই শিক্ষকের হাতে।
এ সময় বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করে তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবো প্রিয় বড়ুয়া বলেন, ‘শিক্ষক মো. আবু সামা অত্যন্ত পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও নিবেদিতপ্রাণ একজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও আন্তরিকতা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি আরিফ মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, ‘স্যার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে আমাদের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তিনি আমাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আজ আমরা জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সাফল্য অর্জন করেছি, তার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।’
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মো. আবু সামা। তিনি সহকর্মী, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ব্যান্ডের তালে তালে শিক্ষার্থীরা প্রিয় শিক্ষকের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন। পরে ফুল দিয়ে সাজানো একটি গাড়িতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা গাড়ির সামনে দড়ি বেঁধে বিদ্যালয়ের ফটক পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান। মোটরসাইকেলের হর্ন, ব্যান্ডের সুর ও শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, মো. আবু সামা ১৯৯০ সালে হাচিনসনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩৬ বছর নিষ্ঠা ও সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা শেষে বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে যান। তাঁর বিদায় আয়োজন বিদ্যালয়ের ইতিহাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ